ওয়ানডেতে ক্রিস গেইলের সেরা পাঁচটি ইনিংস

১৯৯৯ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের সাথে অভিষেক হয় ক্রিস গেইলের। প্রথমদিকে তিনি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন। বর্তমানের ক্রিস গেইলকে যতটা মারমুখী হয়ে ব্যাট করতে দেখা যায়, ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন তার বিপরীত। এমনকি তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান অভিষেকের তিন বছরের মাথায় ৩২তম ম্যাচে।

Image source: Zee News

ইতোমধ্যে একদিনের ক্রিকেট অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিস গেইল৷ আসন্ন আইসিসি বিশ্বকাপের পরই ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানবেন তিনি৷ ২০ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মোট ২৮৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২৮২ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩৮.১ গড়ে করেছেন ১০০৭৪ রান। ২৫টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৫০টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এই ক্যারিবিয়ান দানবের। আজ তারই ক্যারিয়ার সেরা পাঁচটি ইনিংস সম্পর্কে জানবো।

৫. কেনিয়ার বিপক্ষে ১৫২ রান

২০০১ সালে কেনিয়ার সিমবা ইউনিয়ন স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানালে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন ক্রিস গেইল ও ড্যারেন গঙ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দুজন ১৭৪ রানের বিশাল জুটি গড়েন। ড্যারেন গঙ্গা আউট হলে ওয়াভেল হাইন্ডস ও চার্ল হুপারের সাথে ছোট দুটি জুটি গড়েন ক্রিস গেইল। এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে শিবনারায়ণ চন্দরপলের সাথে ৬০ রানের আরেকটি জুটি গড়েন তিনি।

Image source: crickinfo.com

এরপর দলীয় ২৫৬ রানের মাথায় বোল্ড আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ক্রিস গেইল। ১৫০ বল খেলে ১৭টি চার ও ১টি ছয়ের সুবাদে ১৫২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস উপহার দেন তিনি। এটিই ছিল গেইলের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরির উপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩১১ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ ম্যাচটিতে তারা ১০৬ রানের জয় পায়। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ক্রিস গেইল।

৪. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫২ রান

২০০৪ সালে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ১৯৩ রান তুলে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল ও শিবনারায়ণ চন্দরপল। এরই মাঝে ১১৬ বলে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নেন গেইল। চন্দরপল ৮৫ রানে আউট হলে ব্রায়ান লারা ও রিকার্ডো পাওয়েলের সাথে ১৯ ও ৯২ রানের জুটি গড়েন তিনি।

Image source: banglatimetv.com

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরো আগ্রাহী হয়ে উঠেন গেইল। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে ১৫৩ বল মোকাবেলা করে ১২টি চার ও ৩টি ছয়ের মাধ্যমে ১৫২ রান করেন। ৫০ ওভার শেষে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩০৪ রান। জবাবে জ্যাক ক্যালিসের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে দুই বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

৩. জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৩ রান

২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে কুইনস স্পোর্টস ক্লাব স্টেডিয়ামে খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ব্রায়ান লারা। ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৭ রান তুলেন ওয়াভেল হাইন্ডস ও ক্রিস গেইল। ২৪ রান করে হাইন্ডস আউট হলে ব্রায়ান লারার সাথে ১৭৬ রানের একটি বিশাল জুটি গড়েন ক্রিস গেইল। লারা ১১৩ রানে আউট হবার পর ক্রিস গেইলও ১৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন।

Image source: The News International

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর মাত্র ২৫ বল খেলে দেড়শত রান পূর্ণ করেন গেইল। সবমিলিয়ে ১৬০ বল খেলে ১৯টি চার ও ২টি ছয়ে সাজিয়েছেন ১৫৩ রানের অসাধারণ ইনিংসটি। ব্রায়ান লারা ও ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরির সুবাদে ৬ উইকেটে ৩৪৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৫১ রানের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ক্রিস গেইল।

২. ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬২ রান

ইতোমধ্যেই ওয়ানডে ক্রিকেট হতে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন ক্রিস গেইল। অবসরের ঘোষণার পর থেকে তিনি যেন আরও আগুন্তকে পরিণত হয়েছেন। গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় অধিনায়ক। ব্যাট করতে নেমে এউইন মরগান ও জস বাটলারের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪১৮ রানের বিশাল টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড।

Image source: Fox Sports

জবাবে প্রথম থেকেই মারমুখী হয়ে খেলতে থাকেন ক্রিস গেইল। দ্রুতই দুই উইকেট হারালে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৭৬ রান যোগ করেন গেইল ও ড্যারেন ব্রাভো। মাত্র ৫৫ বলে ক্যারিয়ারের ২৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্রিস গেইল। পরে ড্যারেন ব্রাভো ৬১ রানে আউট হলে রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়।

এরপর দলীয় ২৯৫ রানের মাথায় বেন স্টকসের বলে বোল্ড আউট হন গেইল। মাত্র ৯৭ বল খেলে ১১টি চার ও ১৪টি ছয়ের মাধ্যমে ১৬২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। তারপরও দলকে জেতাতে পারেননি গেইল৷ জয়ের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২৯ রানে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১. জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৫ রান

ক্রিস গেইল তার ক্যারিয়ার সেরা ও একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো ম্যাচটি খেলেন ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ১৫তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মারলন স্যামুয়েলসকে সাথে নিয়ে শুরু হয় গেইলের ব্যাটিং তাণ্ডব।

Image source: YouTube

১০৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন গেইল৷ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তিনি আরও আগ্রাসী হতে থাকেন। পরে মাত্র ৩৩ বল খেলে ডাবল সেঞ্চুরিতে পা রাখেন গেইল৷ মারলন স্যামুয়েলসও তুলে নেন ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক। ৫০তম ওভারের শেষ বলে আউট হন গেইল৷ ১৪৭ বল খেলে ১০টি চার ও ক্যারিয়ার সেরা ১৬টি ছক্কা হাঁকিয়ে ২১৫ রান করেন তিনি। এটিই ক্রিস গেইলের ২০ বছরের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ইনিংস। এবং তাদের ৩৭২ রানের পার্টনারশিপটিও ছিল ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ম্যাচটি ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৭৩ রানে জয়ী হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ক্রিস গেইল।

Featured Image Source: ICC Cricket

The post ওয়ানডেতে ক্রিস গেইলের সেরা পাঁচটি ইনিংস appeared first on Khela.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *